নারী-নিগ্রহের ঘটনায় উদ্বেগ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: করোনা অতিমারীর আবহে গোটা দুনিয়ায় বেড়েছে নারী-নিগ্রহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যে সমীক্ষার রিপোর্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে এসেছে, তাতে আশঙ্কা বেড়েছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী জানানো হয়েছে, বিশ্বব্যাপী প্রতি ৩ জনে ১জন মহিলা শারীরিক ও যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। এই অবস্থায়
উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ( হু)। করোনা ভাইরাস আবহে লকডাউন পর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রান্তে মহিলাদের ওপর শারীরিক ও যৌন নিগ্রহ বেড়েছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে শৈশবেই সচেতনতার প্রসার বাড়াতে আগ্রহী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
হু-র ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়সাস এ বিষয়ে জানিয়েছেন, বিশ্বের সব দেশেই নারী নিগ্রহ মহামারীর আকার নিয়েছে। যে অপরাধ সব দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল নষ্ট করছে। তাঁর আরও বক্তব্য, করোনাভাইরাসের আবহে লকডাউন চলাকালীন বিশ্বব্যাপী প্রায় ১লক্ষ মহিলা ও তাঁদের পরিবার আক্রান্ত হয়েছেন। ২০০০সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত হওয়া এক সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সাড়ে আট কোটিরও বেশি মহিলা শারীরিক ও যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। যা ব্যাপক বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ চাপা দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হওয়ায় সব ঘটনা নথিভূক্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
ওই সমীক্ষায় আরওজানানো হয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে মহিলাদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় দায়ী থাকেন তাঁদের স্বামীরা। আবার দরিদ্র দেশগুলিতে নারী নিগ্রহের ঘটনা অতি মাত্রায় বাড়তে থাকায় শঙ্কিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সমীক্ষা অনুযায়ী দেখা গিয়েছে, ফিজি , পাপুয়া নিউ গিনি, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান সহ কয়েকটি দেশে বেড়েই চলেছে নারী নিগ্রহ। তবে ইউরোপে এই ধরনের অপরাধের সংখ্যা অনেক কম। ২৩ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে। তাও বেশ উদ্বেগজনক। এক্ষেত্রে সব দেশের প্রশাসনকে এ ব্যাপারে কড়া ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে ” হু”-এর পক্ষ থেকে।
ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ১৫ থেকে ১৯ বছরের কিশোরী বা তরুণী সম্পর্কে জড়ানোর পর নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন আকছার । বিশ্বব্যাপী নারী নিগ্রহের ঘটনা বন্ধে নিয়ম করে সচেতনতার পক্ষে সম্মতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই সমস্যা সমাধানে বা অপরাধ বন্ধে শিশুদের মনে ভাবনার প্রসার ঘটানোর প্রয়োজন রয়েছে। সমাজে নারীদের স্থান ও তাঁদের সম্মান করার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ,তা বোঝাতে হবে। সেই শিক্ষা স্কুল থেকে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে বার্তা দিয়েছে “হু”।
খবরটি পড়ে ভালো লাগলে লাইক-কমেন্ট ওশেয়ার করে পাশে থাকবেন।

